ইরা‌নে হামলার প্রভাব

একদিনে পুঁজিবাজা‌রে প্রায় আড়াই শতাংশ দরপতন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলার খবরে দেশের পুঁজিবাজারের সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল সূচকে বড় দরপতন হয়েছে।

এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এদিন এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন ১৮ শতাংশ কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম মিনিটেই সূচকে বড় দরপতন দেখা যায়। দিনশেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৫২ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ২৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০-এ দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১১৬ পয়েন্ট।

গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন কমেছে ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩০টির, কমেছে ৩৫৩টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৬টির।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে চলমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ছন্দপতন ঘটেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে বাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৩ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। বস্ত্র খাত ৮ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৮ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৩ দশমিক ৭, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৩ দশমিক ২, প্রকৌশল খাতে ৩ দশমিক ২ এবং সাধারণ বীমা খাতে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ১৬৫ দশমিক ৪২ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৪২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ২৪৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৮৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৫টির, কমেছে ১৩৮টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১১টির। গতকাল সিএসইতে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

আরও